ঢাকা,  শনিবার
২০ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

বগুড়ায় তিন জমজ ভাই চান্স পেল মেডিকেলে পড়াশোনার

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বগুড়ায় তিন জমজ ভাই চান্স পেল মেডিকেলে পড়াশোনার

ছবি : মেসেঞ্জার

অবিশ্বাস্য হলেও চরম সত্য। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে পড়াশোনা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ওরা তিন জমজ ভাই। বগুড়ার ধুনট উপজেলার তিন জমজ ভাই এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। ছোট্টকালে বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় তাদের পণ ছিল ডাক্তার হওয়ার।

আজ তাদের ছোট বেলার স্বপ্নপুরনের দ্বারপ্রান্তে। এমন তিন জমজ ভাইয়ের এক সাথে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার খবর বগুড়া জেলার টপ অব দ্যা টাউন হয়ে পড়েছে।

তারা ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরে বগুড়া সরকারী কলেজ শাহ সুলতান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেন। তিন জমজ ভাই এর মাঝে মোঃ মাফিউল হাসান গত বছর ঢাকার সরোয়ারদ্দী মেডিকেল কলেজ এবং এবারে মোঃ সাফিউল দিনাজপুর মেডিকেলে মোঃ রাফিউল হাসান নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে।

ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বার তিন ভাই এক সাথে স্কুলে আসে। শিক্ষকদের কাছ থেকে দোয়া চায়। বিনয়ী, ভদ্র তিন শিক্ষার্থীদের দোয়া করি। তারা মিষ্টি নিয়ে এসেছিল। ওদের মেডিক্যালে চান্স পাওয়া আমাদের স্কুলের গৌরব।

শাহ সুলতান কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম জানান, শুনেছি তিন জমজ ভাই এর মধ্যে গতবার একজন এবং দুজন মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। ওদের জন্য দোয়া থাকলো।

তিন শিক্ষার্থীর রত্নাগর্ভা মা আর্জিনা বেগম জানান, ২০০৯ সালে ওদের বাবা গোলাম মোস্তফা হার্ট এটাকে মারা যায়। তখন ওদের বয়স মাস। বাবার স্নেহ মমতা পাইনি ওরা। বাবা মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে পড়ালেখা করানো নিয়ে বিপাকে পড়ি। নিজে কষ্ট করে জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখা করিয়েছি।

প্রায় বিঘা জমি ছিল। বাবার বাড়ীর জমিও বিক্রি করে ওদের পিছে লাগিয়েছি। বাকী যা আছে তাও প্রয়োজনে বিক্রি করবো। তবুও ওদের ডাঃ বানাবো যাতে আমাদের মত গরীব মানুষদের সেবা করতে পারে।

তিন সন্তানের মেডিকেলে চান্স পেয়ে কতটুকু খুশি হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কত খুশি হয়েছি প্রকাশ করতে পারবো না। গ্রামের লোকজন ওদের যখন দেখতে আসে তখন বুক ভরে যায়।

মাফিউল হাসান জানান, তিন জমজ ভাই বগুড়ায় মেসে একই সাথে থেকে সরকারী শাহ সুলতান কলেজে পড়েছি। মা, কষ্ট করে এবং জমি বিক্রি করে পড়ালেখা করিয়েছে। কখনোই আমাদের কষ্ট করতে দেয়নি।

তিনি আরও জানান, বথুয়াবাড়ী গ্রামের মধ্যে আমরাই প্রথম মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। এর আগে আর কেউ চান্স পায়নি। খুবই ভালো লাগছে।

শাফিউল ইসলাম জানান, আজ বাবা থাকলে কত খুশী হতো। বাবাকে হারিয়েছি শিশু কালে। এখন মাই বাবার অভাব পুরন করছে। মানুষের সেবা করার জন্য চিকিৎসক হতে পারি এই দোয়া চাই সবার কাছে।

মোঃ রাফিউল ইসলাম জানান, অসুস্থ অবস্থায় বাবা মারা যায়। যখন বুঝতে পারলাম বাবার সেই কথা তখন থেকেই তিন ভাই প্রতিজ্ঞা করি ডাক্তারী পড়বো এবং মানবতার কাছে গরীব মানুষদের পাশে দাড়িয়ে চিকিৎসা করবো। বাবার মত যেন কাউকে অকালে ঝড়ে পড়তে না হয়।

মেসেঞ্জার/আলমগীর/আপেল