ঢাকা,  মঙ্গলবার
২৩ এপ্রিল ২০২৪

The Daily Messenger

ইউএইতে ‘মায়ের ভাষায় কথা বলি’ ব্যতিক্রমী আয়োজন

ইউএই প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ২১:৪৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ইউএইতে ‘মায়ের ভাষায় কথা বলি’ ব্যতিক্রমী আয়োজন

ছবি : মেসেঞ্জার

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলা বিভাগের ১০ জন শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই।

বাঙালির হৃদয়ে মিশে আছে বাংলা ভাষার জন্য জীবন দেওয়া গৌরবময় উজ্জল ইতিহাস। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষীদের সন্তানদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পাঠদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসী বাংলা বিভাগের শিক্ষরা। এর ব্যতিক্রম নয় উপসাগরীয় আরবী ভাষাভাষীর দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরকারি হিসেব অনুযায়ী বাংলাভাষীরা তৃতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী।

ভাষার মাস উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হয়ে গেল ‘মায়ের ভাষায় কথা বলি’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী একটি অনুষ্ঠান।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির শারজায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই। অনুষ্ঠানে দেশের বিলুপ্ত প্রায় আঞ্চলিক ভাষা তুলে ধরা ও বহির্বিশ্বে ভিনদেশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা পাঠদানকারী বাংলাদেশি শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

এই আয়োজনে ১০ জন বাংলাদেশি শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে। যারা দেশটিতে সর্বনিন্ম ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড ও সিবিএসই বোর্ডের অধীনস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা বিষয়ে পাঠদান করে আসছেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- অধ্যাপিকা নুরুন নাহার হুদা, রহিমা ইসলাম, সুমনা দাস, অধ্যাপক এস এম আবু তাহের, আবু তাহের মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, নাসরীন সুলতানা, শেখ কানিজ-এ-ফেরদৌস, রহিমা সেলিনা সিদ্দিকী, স্নিগ্ধা সরকার তিথী ও জুইঁয়েনা আক্তার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন। শিবলী আল সাদিকের সভাপতিত্বে ও কামরুল হাসান জনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী গভেষক ড. রেজা খাঁন, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (প্রেস) আরিফুর রহমান, শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আহমেদ হোসাইন ও বাংলাদেশ সমিতি দুবাইয়ের সিনিয়র সহ সভাপতি ইয়াকুব সুনিক, বাংলাদেশ সমিতি শারজার সহ সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

এসময় শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড ও সিবিএসই বোর্ডের অধিনস্থ ১১ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই'র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আমিরাতে ৩০ বছর বাংলা বিষয়ে শিক্ষকতা শেষে অবসর যাওয়া অধ্যাপিকা নুরুন নাহার হুদা এই সম্মাননা পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো। এই প্রথম শিক্ষকরা একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ হলো। এর আগে কোন সামাজিক, রাজনৈতিক বা সেবামূলক সংগঠন বাংলাদেশি শিক্ষকদের আলাদাভাবে সম্মান জানায়নি। এই ভালোবাসা আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন বলেন, মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা জাতির কাছে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই ভাষা দূরপরবাসে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের কাছে যারা পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই একটি মহৎ কাজ করেছে৷ তা ছাড়া আঞ্চলিক ভাষায় যে বৈচিত্রতা তারা তুলে ধরেছে এটিও প্রশংসনীয় কাজ।

এসময় তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের দুবাই ও উত্তর আমিরাতে আন্তর্জাতিক মানের একটি বাংলাদেশি স্কুল প্রতিষ্ঠা ও শিশুকিশোরদের জন্য বাংলা ভাষা চর্চা কেন্দ্র চালু করতে বাস্তবমুখী ও সাহসী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এরআগে অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা চর্চায় উৎসাহিত করতে ও আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদা রক্ষায় একটি বিশেষ পর্ব পরিচালনা করায়। যেখানে দেশের আটটি বিভাগের আঞ্চলিক ভাষাসহ প্রায় বিলুপ্ত উপভাষায় নিজ অঞ্চলের ভাষার বৈচিত্র্য ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রবাসীরা।

এতে ঢাকার কুট্টি ভাষায় ড. রেজা খাঁন, চাটগাঁইয়া ভাষায় মোস্তফা মাহমুদ, সিলেটি ভাষায় হাজী শফিকুল ইসলাম, রংপুরী ভাষায় স্নিগ্ধা সরকার তিথী, মোমেনশিঙ্গা ভাষায় উত্তম কুমার সরকার, বরিশাইল্যা ভাষায় সাথী আক্তার প্রিয়া, খুলনাইয়া ভাষায় শাহীদ ইসলাম, বরেন্দ্রী উপভাষায় সানজিদা আঞ্জুম শিমুল ও নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কামাল হোসাইন সুমন নিজের অঞ্চলকে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন জামাল হোসেন, আবিদা হোসেন, শিবলী আল সাদিক, এস এম শাফায়েত, রাহবার আবদুল্লাহ শিবলী, রুহিন হোসেন ও সাকিয়া সিদ্দিকা জেরিন।

মেসেঞ্জার/আশরাফুল/আপেল

dwl
×
Nagad