ঢাকা,  মঙ্গলবার
১৬ এপ্রিল ২০২৪

The Daily Messenger

শরীয়তপুরে মানববন্ধনে আইনজীবীদের হাতাহাতি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ২৮ মে ২০২৩

শরীয়তপুরে মানববন্ধনে আইনজীবীদের হাতাহাতি

ছবি : টিডিএম

শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে মানবন্ধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (২৮ মে) জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনের পক্ষে বিপক্ষের থাকা আইনজীবীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। এতে মানববন্ধনের পক্ষে থাকা বেশ কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন বলে দাবি আইনজীবীদের একাংশের।

শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে ২৫৫ জন নিবন্ধিত আইনজীবী রয়েছেন। এই আইনজীবীদের ভোটে প্রতিবছর ১৫ সদস্যর কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির নেতৃত্বে ওকালতনামা, নীল কাগজ বিক্রি, জামিননামা (বেইলবন্ড) বিক্রি, চার তলা ভবনের ৬২টি কক্ষের ভাড়া আদায় করা হয়। আইনজীবী সমিতির আয়ের ওই টাকা সমিতির সদস্যদের কল্যাণের জন্য ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়।

কিন্তু,আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু সাঈদের বিরুদ্ধে সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন সমিতির আইনজীবীরা। আর আবু সাঈদকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনা তদন্তে সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনজীবী সমিতি। কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ১০ মে সমিতির সাধারণ সভা করে আবু সাঈদ জহিরুল ইসলামের সদস্যপদ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সমিতি ভবনে তাদের নামে বরাদ্দ করা চেম্বারও বাতিল করা হয়। ঘটনার দায় স্বীকার করে আবু সাঈদ আইনজীবী সমিতিতে চিঠি দেন। তাতে তিনি দাবি করেন টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জহিরুল ইসলাম যুক্ত নয়। বিভিন্ন সময় নিজের প্রয়োজনে এফডিআরের টাকাগুলো তিনি নিজে খরচ করেছেন।

আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলে আপিল করেন সাবেক সভাপতি অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম। শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা গত বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিল পুনরায় শুনানি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। জহিরুল ইসলাম তা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকে অবহিত করেন। বার কাউন্সিলের ওই সিদ্ধান্তে কিছু আইনজীবী ক্ষুণ্ন হন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত আইনজীবীরা কল্যাণ তহবিলের টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া আইনজীবী মুরাদ হোসেন মুন্সী বলেন, আমাদের সমিতির এক কোটি ৯২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ। আর এতে সহায়তা করেছেন সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সাধারণ আইনজীবীদের ন্যায্য টাকা ফেরত পাইনি।

তিনি আরও বলেন,কিছুদিন পূর্বে আমাদের দুজন আইনজীবী মারা গেছেন। তাদের পরিবারকে কোন আর্থিক সহায়তা করতে পারেনি। আমাদের টাকা ফেরত দোষী আইনজীবীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের আইনজীবীরা বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে। হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন।

সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, মানববন্ধনে কিছু আইনজীবী বাধা দিয়েছে শুনেছি। এতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সাবেক সাধারণ সম্পাদক টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। এবং ধারাবাহিকভাবে টাকা ফেরত দিবেন। এতে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, মানববন্ধনে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যারা ঘটিয়েছে খুবই দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত সকল সাধারণ আইনজীবীরা মানববন্ধন করবেন এটা তাদের অধিকার। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের সাথেই কথা বলে তাৎক্ষণিক তা সমাধান করা হয়েছে।

টিডিএম/এএম

dwl
×
Nagad