ঢাকা,  মঙ্গলবার
১৬ এপ্রিল ২০২৪

The Daily Messenger

শরীয়তপুরে ছাত্রী যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ৪ জুন ২০২৩

শরীয়তপুরে ছাত্রী যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও

ছবি : টিডিএম

শরীয়তপুরে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল ও থান ঘেরাও করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৪ জুন) সকাল ১১ টার দিকে শ্রেনী কক্ষ থেকে ধর্ষকের বিচার চেয়ে বিভিন্ন প্লাকারড নিয়ে বেরিয়ে আসে পদ্মা সেতু সংলগ্ন নাওডোবার আমজাদিয়া একাডেমীর শিক্ষার্থীরা।

এসময় বিদ্যালয় মাঠ থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন সকল শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সকাল সারে ১১ টার দিকে তীব্র তাপদাহকে উপেক্ষা করে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক হয়ে মিছিলটি পদ্মা দক্ষিণ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে শুরু করে। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মাসুদুর রহমানকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে থানা অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। 

পুলিশ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ৩০ মে আমজাদিয়া একাডেমীর অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারি মাসুদুর রহমান তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। এরপর তিনি ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন। শরীরের স্পর্সকাতর স্থানে হাত দেন। আপত্তিকর আচরন করেন। তখন অন্য শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় ওই ছাত্রী রক্ষা পায়। পরের দিন ওই ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে।
 


বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি অভিযুক্ত মাসুদুর রহমানকে এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছে। আর ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ছয় সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন একাধিক শিক্ষক। এরই প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষার্থীরা শ্রেণী পক্ষ থেকে বের হয়ে মাঠে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পরে তারা নাওডোবা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রখর রৌদ্র ও তাপদাহকে উপেক্ষা করে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিন থানায় যায়। সকাল সারে ১১ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিল শিক্ষার্থীরা থানা ক্যাম্পাস ছারে।

দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ইভা আক্তার বলেন, শিক্ষক বাবার মতো, তাদের থেকে যদি আমরা নিরাপত্তা না পাই তবে পরালেখা করবো কি করে। এর আগেও ওই অফিস সহকারী একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। মান সম্মানের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদে আমরা পড়ালেখা করতে চাই। আমার বোনের সাথে যে আচরন করা হয়েছে তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। তার শাস্তি ও বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বরখাস্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা প্রত্যেক অভিভাবকরাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা না থাকলে আমরা মেয়েদের লেখাপড়া করাবো কি করে। এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আমজাদিয়া একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জিয়া বলেন, এক শিক্ষার্থী আমাদের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ করেছে। ওই অভিযোগের বিষয়ে ছয় সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর অভিযুক্ত অফিস সহকারি মাসুদুর রহমানকে এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বুঝিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। 

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমজাদিয়া একাডেমীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয় মৌখিকভাবে শুনেছিলাম। আজ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানার ক্যাম্পাসে এসেছিল। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা থানা ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টিডিএম/আরস

dwl
×
Nagad