ঢাকা,  শনিবার
১৫ জুন ২০২৪

The Daily Messenger

বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেল ঝর্ণা দিও সহ ৬ নারী

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ১৯ নভেম্বর ২০২৩

বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেল ঝর্ণা দিও সহ ৬ নারী

ছবি : মেসেঞ্জার

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর বিধবাপল্লীর সেই ঝর্ণা দিওসহ আরো বিধবা বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্বীকৃতিপ্রাপ্তরা হচ্ছেন, ঝর্ণা দিও, সমিলা রাকসাম, মালতি রাকসাম, মোছাঃ হাজেরা, মোছাঃ লাকজান কেরেঙ্গা পাড়ার মোছাঃ ছাহেরা খাতুন।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৮৬ তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জনকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ইতিমধ্যে তাদের নামে গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়ে ওই বিধবাপল্লীর ২০ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) স্বীকৃতি পেলেন।

এর আগে ১৪ জন নারী মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া ২০ জনের মধ্যে জন ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরন করেছেন। গত ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিন্ন ভিন্ন গেজেটে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

বীরাঙ্গনা'রা জানায়, শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ীর নিভৃত পল্লী সোহাগপুর। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৫ জুলাই নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল কাঁকরকান্দি ইউনিয়নের গ্রামটিতে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা এদিন ১৮৭ জনকে হত্যা করে। সম্ভ্রমহানি করা হয় নারীদেরও।

তারা জানায়, খুঁজে খুঁজে গ্রামের সকল পুরুষদেরকে হত্যা করা হয়। সেই থেকে গ্রামটি বিধবাপল্লী নামে পরিচিত লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জঘন্যতম এবং নৃশংসতম ওই গণহত্যায় গ্রামের ৬২ জন মহিলা বিধবা হন এবং তাঁদের অনেককেই শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এদিকে সম্প্রতি সোহাগপুর গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি মাটির ঘর। দেয়ালের অনেক জায়গা ভেঙে গেছে। টিনের চালায় মরিচা ধরেছে। তাতে ফুটো হয়ে বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। ঘরেই মেয়ে লিন্ডা দিওর সঙ্গে বসবাস করছেন ঝর্ণা দিও। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া ঝর্ণা দিও ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। চোখে খুব একটা দেখেন না। এমনকি ভালো করে কথাও বলতে পারেন না, মুখে আটকে যায়। জরায়ু ক্যানসারসহ নানা রোগে ভুগছেন বলে জানালেন তার মেয়ে। তবে তার প্রাপ্তিতে মেয়েসহ সহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারাও খুব খুশি হয়েছেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও ওই গ্রামের ৫৬ জন বিধবা বেঁচেছিলেন। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে বেঁচে আছেন ২২ জন বিধবা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই ২৯ জন বিধবার প্রত্যেকের জন্য ১১ লাখ টাকা করে মোট কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যায়ে ২৯ টি পাকা বাড়ি করে দিয়েছেন।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সোহাগপুরে "বীর কন্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠা করা হয়। শহীদদের স্মরণে গ্রামটিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে "শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ" বিধবাপল্লীর রাস্তাটিও পাকা করা হয়েছে। শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ "সৌরজায়া" স্থাপন করা হয়েছে। জেলার পুলিশ সদস্যরা তাঁদের বেতনের টাকায় বিধবাদের কিনে দিয়েছেন জমি।

মেসেঞ্জার/নাঈম/আপেল

Advertisement