ঢাকা,  মঙ্গলবার
১৬ এপ্রিল ২০২৪

The Daily Messenger

মাদারীপুরে বাহারি পিঠার সমাহারে ফুটে উঠে গ্রামীণ ঐতিহ্য

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:১৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৪

মাদারীপুরে বাহারি পিঠার সমাহারে ফুটে উঠে গ্রামীণ ঐতিহ্য

ছবি : মেসেঞ্জার

মাদারীপুর জেলার শিবচরে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো পিঠা উৎসব। পিঠা উৎসবকে ঘিরে ফুটে উঠে গ্রামীণ ঐতিহ্য। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে শুরু হয় পিঠা উৎসব। চলে রাত পর্যন্ত। পিঠা উৎসবকে ঘিরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয় পিঠা প্রাঙ্গন।

মাদারীপুর জেলার শিবচর পৌরসভার চৌধুরী ফাতেমা বেগম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত পিঠা উৎসব যেন বর্নিল রংয়ে মেতে উঠে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত ছিল প্রচন্ড ভীড়। পিঠা উৎসবে বিভিন্ন স্টলে ছিল গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী পিঠার বিশাল সমারোহ।

নৌকা, কাঁটা পিঠা, পাটি সাপটা, ঝুরি পিঠা, ঠোস পিটা, দুধপুলি, ভাঁপাপিঠা, সইপিঠাসহ হরেক রকমের পিঠা খেতে নারী, পুরুষ শিশুদের ভীড় ছিল প্রতিটি স্টলে। এছাড়াও উৎসবকে ঘিরে হারিয়ে যাওয়া পালকি, ঢেঁকি, চালনাসহ হরেক রকমের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো।

শিবচর ডায়াবেটিক সমিতি উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুরে শিবচরে পৌর এলাকার চৌধুরী ফাতেমা বেগম অডিটরিয়ামে উৎসব মুখর পরিবেশে এই পিঠা উৎসব পালিত হয়। পিঠা উৎসবে প্রায় অর্ধশত দোকান বসে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর--আলম চৌধুরী এমপি ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের উদ্ধোধন করেন।

আয়োজকরা জানান, দেশব্যাপী শৈত্য প্রবাহের মধ্যেও বাহারী পিঠার পসরা নিয়ে বসেন দোকানীরা। পিঠা উৎসবে দুধকলি, পাটিসাপটা, ঝুড়িকাটা, মুখচাপালি, সিদ্ধকলি, খিরপাটি সাপটা, দইলা পিঠা, ইলিশ কুলি, কদম কুলি সুন্দরী পিঠা নকশি কলি সহ বাহারনী নামে অনেক পিঠার পসরা নিয়ে বসেন দোকানীরা।

গত কয়েকদিন ধরেই বাড়িতে বসে এই পিঠা উৎসবকে সামনে রেখে গ্রামের নারীরা নানা ধরনের সুস্বাদু পিঠা তৈরি করেন। 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর--আলম চৌধুরী এমপি বাংলাদেশ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফরিদপুর- আসনের সংসদ সদস্য (সতন্ত্র) মজিবুর রহমান চৌধুরী এই পিঠা উৎসবে যোগ দেন। জাতীয় সংসদের সহোদর দুই সাংসদের আত্মীয়-স্বজন পরিবারের লোকজন এই পিঠা উৎসবে যোগ দেন। এতে পিঠা উৎসব হয়ে উঠে আরো প্রানবন্ত।

উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপের সহধর্মিনী জিনাত পারভীন চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, ডায়াবেটিক সমিতির চেয়ারম্যান রাজিয়া চৌধুরী, শিবচর পৌর মেয়র মোঃ আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ডাঃ মোঃ সেলিম, মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য শিবচর ডায়াবেটিকস সমিতির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আয়শা সিদ্দিকা প্রমূখ।

দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই পিঠা উৎসব। দর্শনার্থী ক্রেতারা অনেক আনন্দ উপভোগ করেন। আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতি বছরই পিঠা উৎসবের আয়োজন করার দাবী জানান দোকানী এলাকাবাসীরা। পিঠা উৎসবে বাহারী নামের শতাধিক ধরনের সু-স্বাদু পিঠা বেচা-কেনা হয়।

অনেকে আবার পিঠা কিনে নেন আত্মীয় স্বজনদের জন্য উপহার সামগ্রী হিসেবে। উৎসবে পিঠা ছাড়াও খাটি খেজুরের গুড়, খাটি ঘি, শীতের পিঠা কেক, হাওয়াই মিঠাই তৈরির মেশিন নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসেন দোকানীরা।

পিঠা উৎসবে চলে হারিয়ে যাওয়া বাউল শিল্পীর গান। ঢাকা থেকে আগত অতিথিরা পিঠা উৎসবে যোগ দিয়ে শীতের পিঠা খেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন আর বাউল শিল্পীদের গানে মুগ্ধ হন। গ্রাম বাংলার পিঠার হরেক রকম রূপ স্বাদে অভিভূত আয়োজক অংশগ্রহনকারীরা। প্রতি বছরই ধরনের আয়োজনের দাবী তাদের।

মেসেঞ্জার/ইমতিয়াজ/আপেল

dwl
×
Nagad