ঢাকা,  মঙ্গলবার
১৬ এপ্রিল ২০২৪

The Daily Messenger

মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, গ্রেফপ্তার ৪

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৪৯, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, গ্রেফপ্তার ৪

ছবি : মেসেঞ্জার

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দিয়ে বানানো শরবত খেয়ে জিম খাতুন (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফপ্তার করেছে পুলিশ । এঘটনায় মাসহ ৪ জন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মৃত জিম খাতুন উপজেলার বৈলগাছি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন, নিহতের মা পারভিন খাতুন,  মেয়ে রিয়া ও নুরি এবং ভাতিজি মিথিলা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, মঙ্গলবার বিকেলে বেলকুচি থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেফপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বৈলগাছী গ্রামের মুদি দোকানদার আমিরুল ইসলাম, সাগর, স্যালাইনের পাইকারি বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম ও উপজেলার সমেসপুর বাজারের অনুমোদনহীন নাফিস টেস্টি এলাইন (স্যালাইন) প্রস্তুতকারক আনিসুর রহমান।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় শবে বরাতের নফল রোজা রেখে ইফতারিতে শরবর বানিয়ে খেলে জিমসহ পরিবারের পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর জিমের মৃত্যু হয়। পরে প্রথমে বেলকুচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন জানান, অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদেরকে সিরাজগঞ্জে প্রেরণ করেন। এখানে আসার পর জিম খাতুন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ অপর ৪জনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জিমের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ থেকে  চারজন বিষক্রিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে মা পারভীন ও মেয়ে রিয়া এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায়। তবে বাকি দুজন আশঙ্কামুক্ত আছেন। ওরস্যালাইন পানে বিষক্রিয়া নাকি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এমন হয়েছে সেটা বলা কঠিন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বেলকুচি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, একটি ব্রান্ডের ওরস্যালাইন, একটি কোম্পানির সফট ড্রিঙ্কসের পাউডার ও স্থানীয় নাফিস টেস্টি এলাইন (স্যালাইন) মিশিয়ে তারা শরবত বানিয়ে পান করেন। এরপর শিশুটি মারা যায় এবং তার মা ও দুই বোনসহ চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুদি দোকানদার আমিনুল ইসলামসহ চারজনকে থানায় আনা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ওই স্যালাইনের অনুমোদন নেই বলে জানা যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, মারা যাওয়া ওই শিশুর বাড়ি থেকে স্যালাইন ও সফট ড্রিঙ্কসের পাউডারের খালি মোড়কগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। মোড়কগুলোর মধ্যে নাফিস টেস্টি এলাইন নামের অনুমোদনহীন স্যালাইন পাওয়া যায়। যার মেয়াদ বোঝা যাচ্ছেনা। যেটা অনুমোদনহীন হলেও স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন হয়ে আসছিল। পরে কারখানায় থাকা অবিক্রীত স্যালাইনগুলো জব্দ করা হয়েছে।

মেসেঞ্জার/ফারিয়া

dwl
×
Nagad