ঢাকা,  শনিবার
১৫ জুন ২০২৪

The Daily Messenger

সরাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান?

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ৪ মে ২০২৪

আপডেট: ১৯:২৬, ৪ মে ২০২৪

সরাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান?

ছবি : মেসেঞ্জার

আগামী ৮মে অনুষ্ঠিত হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে  প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে ব্যাপক গণসংযোগ, কর্মিসভা, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক। শোভা পাচ্ছে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে প্রার্থীদের পোস্টার।

উপজেলা নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন, সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিকবারের সাবেক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর (ঘোড়া)।

উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের (প্রস্তাবিত কমিটি) সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু হানিফ (কাপ-পিরিচ), সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সম্পাদক মো. শের আলম (মোটরসাইকেল), উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মো. মুখলেছুর রহমান (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সামাজিক ব্যক্তিত্ব ব্যবসায়ী মো. জামাল মিয়া (দোয়াত-কলম)।

তবে এবারের হিসাব একটু ভিন্ন। তিনজন আলোচনায় রয়েছেন কিন্তু কে হচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এই নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।

শেষ মুহূর্তে উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর (ঘোড়া) ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. শের আলম (মোটরসাইকেল) প্রতীকের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমনটা দাবি করছেন সচেতন ভোটাররা। কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা সরাইল সদরের কুট্রাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন ঠাকুরের ছেলে রফিক উদ্দিন ঠাকুর (ঘোড়া)। তিনি ২০০০ ও ২০০৭ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে মনোনীত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আবার ২০০৯ ও ২০১৮ সালে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অন্যদিকে এক সময়ের সরাইল কলেজ ও উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ নেতা পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শের আলম মিয়া। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্যও।

অপরদিকে শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিস মিয়ার সন্তান মো. আবু হানিফ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের (প্রস্তাবিত কমিটির) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে হানিফ ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু হানিফ (কাপ-পিরিচ) তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দিনরাত ছুঁটে চলছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

আরেকজন পাকশিমুল ইউনিয়নের ভূঁইশ্বর গ্রামের মো. আবু তাহের মিয়ার ছেলে এডভোকেট মো. মুখলেছুর রহমান (আনারস) ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে আসছেন। ২০০২-২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সরাইল উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০১৪ সালের অনুমোদিত উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তে তখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল মিয়া (দোয়াত-কলম) হেভিওয়েট প্রার্থীদের কাঁপিয়ে তোলার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না ভোটাররা। সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের কেউ কেউ বলছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী মো. আবু হানিফের সঙ্গে জামালের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইটা তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সরাইলের সকল শ্রেণির মানুষকে। ভোটের মাঠে নীরবে কাজ করা জামালও একটা ফ্যাক্টর।

উপজেলা নির্বাচনে এবার ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কে হচ্ছেন ভাইস চেয়ারম্যান। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হানিফ আহমেদ সবুজ (তালা), স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মো. হোসেন মিয়া (টিউবওয়েল), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফেজ মো. আলতাফ হোসেন (চশমা), ব্যবসায়ী মো. সোহেল মিয়া (টিয়া পাখি), মো. কাউছার আহমেদ (উড়োজাহাজ) ও মো. এনাম খাঁ (মাইক)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছা. রোকেয়া বেগম (হাঁস), শামীমা আক্তার (প্রজাপতি), সাবেক ইউপি সদস্য মো. শিরিন আক্তার (কলস) ও মোছা. আবেদা বেগম (ফুটবল) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলা ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। সরাইলে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৪, পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭৭ জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৬ জন। এছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র ৮৪ টি।

মেসেঞ্জার/রিমন/আপেল

Advertisement