ঢাকা,  সোমবার
২৪ জুন ২০২৪

The Daily Messenger

তীব্র দাবদাহে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু চাষিরা

আরিফ হাসান, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ২৫ মে ২০২৪

তীব্র দাবদাহে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু চাষিরা

ছবি : মেসেঞ্জার

লিচুর জন্য পরিচিত ঠাকুরগাঁওয়ে এবার ২৮১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। যা থেকে হাজার ৭০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ। যার বাজার মুল্য ৩৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় লিচু চাষিরা ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের লিচু চাষীরা। ঠাকুরগাঁ জেলায় গোবিন্দ নগর এলাকায় বাগান ঘুরে দেখা যায় দুই একটি গাছে ভালো ফলন থাকলেও বেশিরভাগ গাছেই তেমন ফলন দেখা যায়নি। এতে করে এবার লিচু চাষিরা লোকসানে পড়তে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করতেছে।

জেলায় বেশি চাষ হয় চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বে মাদ্রাজি জাতের লিচু। লিচুর জেলাখ্যাত ঠাকুরগাঁও  গাছে গাছে লিচু লাল হতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ পরে বাজারে আসবে ঠাকুরগাঁওয়ে লিচু। কিন্তু ফলন ভালো না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে এখনো চাষিরা। বাজার মূল্য ভালো না পেলে তাদের এবার মোটা অংকের টাকা লোকসান গুনতে হবে।

কথা হয় গবিন্দনগর গ্রামের লিচু চাষি ফজলুর সাথে। তিনি বলেন, আমি উপজেলার কয়েকটি জায়গায় টি লিচু বাগান কিনেছি। লিচুর গুটি আসার পর থেকেই টানা এক মাস তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল।

তাপমাত্রা অধিক হওয়ায় লিচু পাকার এক সপ্তাহ আগে হলুদ লালচে রং ধারণ করে এতে লিচুর ওপরের আবরণ কালচে হয়ে ফেটে যেতে শুরু করে। এবার আকারও ছোট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবারের আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ফলন বিপর্যয় হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার তুলনামূলক অনেক কম লাভ হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বাগানে গিয়ে কয়েক পাইকারি লিচু ব্যবসায়ীর দেখা পাওয়া হয়। ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লিচু কিনতে তাঁরা এসেছেন। সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনে সেই লিচু নিজ নিজ এলাকায় পাঠাচ্ছেন।

টানা তাপপ্রবাহে ফলন বিপর্যয়ের কথা তাঁরাও স্বীকার করলেন। বাজারে লিচুর চড়া দাম হতে পারে, এর পেছনেও উৎপাদন কম হওয়ার কারণ উল্লেখ করলেন কেউ কেউ।

কথা হয় গড়েয়া ইউনিয়নের মিলনপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর সাথে, তিনি বলেন, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা লিচুর উৎপাদন ব্যাহত করে। এবার গ্রীষ্মের পুরো সময়ে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রির ওপরে ছিল। জেলার ওপর দিয়ে কয়েক দিন প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এতে গুটি অবস্থায় অনেক লিচু ঝরে গেছে। যেগুলো গাছে ছিল, সেগুলো শুকিয়ে রং নষ্ট হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও গত এপ্রিল থেকে টানা মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত জেলায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর পর থেকে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ছিল। মূলত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর তাপমাত্রা কমতে শুরু করে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক কারণে লিচুর ফলনে বিরূপ প্রভাব পড়লেও বাজারে দাম ভালো থাকায় চাষিদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাগানমালিক কিংবা ব্যবসায়ীদের কেউ লিচুতে লোকসানে পড়বেন না।

মেসেঞ্জার/আপেল

Advertisement