ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
১৮ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

আর ভোট দিতে যামু না, ভোট দিলে মাইর খাওয়া লাগে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ১৩ জুন ২০২৪

আর ভোট দিতে যামু না, ভোট দিলে মাইর খাওয়া লাগে

ছবি : মেসেঞ্জার

‘আর ভোট দিতে যামু না, ভোট দিলে মাইর খাওয়া লাগে’। এমন হবে জানলে জীবনেও যাইতাম না ভোট দিতে। আমার স্বামী, ছেলে ঘোড়া মার্কা করছে, ঘোড়া মার্কায় ভোট দিছি, ভোটে জয় হয় নাই দেইখা মোগো মারতে আইছে’।

থাকতে পাড়ি না আর জ্বালা যন্ত্রনায়। এতো মানুষ দেইখা হার্ডফেল হইয়া পড়ছি। ঘড়ের মধ্যে এসব বলেই বিলাপ করছিলেন নির্বাচনী সহিংসতার শিকার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের মজিদবাড়িয়ার রেনু বালা।

সম্প্রতি ৩য় ধাপে গত ২৯ মে মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ঘূর্নিঝড় রিমালের কারণে তা স্থগিত হওয়ায় গত জুন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ৩য় মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন খান আবু বকর সিদ্দিকী।

তবে নির্বাচনের একদিন না পেরোতেই সহিংসতায় জড়িয়ে পরে খান আবু বকর সিদ্দিকী তার অনুসারীরা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রীয়া জানান তার বিপরীত প্রার্থী সমর্থকেরা।

বিশেষ সুত্রমতে, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছিলেনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জুয়েল আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী বারের উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খান খান আবু বকর সিদ্দিকী।

নির্বাচনের দিন না পেড়োতেই ব্যাপক সমলোচনার জন্ম দিয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান তার অনুসারিরা। মন্দিরে অনুদান এর টাকা ফেরত চাওয়া, সংখ্যালঘু হিন্দুদের মারধর করা, আওয়ামী লীগে অফিস ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু প্রধানন্ত্রীর ছবি ভাংচুর, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এর বসতবাড়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান খান আবু বকর সিদ্দিকী বলেন- আমি বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শ সৈনিক। আমি ১২ বছর ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত ছিলাম। যারা জাতীর পিতার ছবি ভেঙেছে তাদের আইনিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হোক। এই কাজ গুলো যারা করেছে তারা আমাকে ছোট করার জন্য করেছে।

আহত স্বামী বাসুদেব হালদারকে হাসপাতালের বিছানায় রেখে সুগন্ধা হালদার জানান- উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবু বকর এর দল না করে জহিরুল ইসলাম জুয়েল এর সমর্থন করায় জুন আমার স্বামীকে মাঠে একা পেয়ে মিরাজ, হিরন, মাসুদ,লিটন, সুমন অর্তকিত হামলা করে মারধর করে।

পরে আমরা তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসি। এছাড়াও আমাদের বাড়িতে ডুকে মন্দির ভাংচুর এর চেষ্টা করে আবু বকর এর সন্ত্রাসী বাহীনিরা। আমরা বাধা দেওয়ায় তারা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেনি।আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই এবং সুষ্ঠভাবে থাকতে চাই তা যদি না হয় আমাদের একখান বস্র নিয়া ওপাড় (ভারত) পাঠাইয়া দেন।

এছাড়াও নং দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে রাজিব, জসিম, হারুন মুন্সিসহ ২০/২২ জন বলে জানিয়েছে নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।

মেসেঞ্জার/মানিক/আপেল