ঢাকা,  রোববার
১৪ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

লামায় রিজার্ভের গাছ চোরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ১৪ জুন ২০২৪

আপডেট: ২০:৪২, ১৪ জুন ২০২৪

লামায় রিজার্ভের গাছ চোরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ

ছবি : মেসেঞ্জার

বান্দরবানের লামা বন বিভাগের আওতাধীন সদর রেঞ্জে আলীকদমের তৈন রেঞ্জের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া আনুমানিক ৫০ ঘনফুট কাঠ সহ বন মামলার আসামি কথিত গাছ চোর খ্যাত মাহবুবকে আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায়।

জানা যায়, ঐদিন দুপুরে লামা সদর ইউনিয়ন থেকে চিহ্নিত গাছ চোর খ্যাত মাহাবুবের নামসিল যুক্ত রিজার্ভের বিরল প্রজাতির তৈলসুর ও গামারী সহ হাতেনাতে আটক করেন রেঞ্জার আতে এলাহী ও বনকর্মীরা। যার বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা।

আটককৃত মাহবুবের নিজস্ব অবৈধ করাতকল থাকায় চোরাই কৃত কাঠগুলো বাজারজাত করে রাতারাতি পাচার করেন প্রতিনিয়ত। একই সাথে অভিযুক্ত মাহবুব স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীদের সংগঠন লামা জোত মালিক সমিতির সদস্য বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে রেঞ্জ অফিস ও অত্র সমিতির জোকসাজশে দেউলিয়া হয়ে উঠেছে গাছ খেকো সিন্ডিকেট। এমনকি উভয়ের গোপন টেবিলের খুশ গল্পে দফারফা হয় কার্যকরী পদক্ষেপও।

এদিকে একাধিক বন মামলার আসামি রিজার্ভের গাছ খেকো খ্যাত মাহবুবকে আটকের পর রহস্যজনক মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় আলোচনা সমালোচনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে জনমনে।

ঘটনার বরাতে এক নারী প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুপুরে আমরা কাজ করা অবস্থায় দেখতে পাই বন বিভাগের লোকজন কয়েকদিন যাবত পড়ে থাকা কাঠ জব্দ করতে আসেন। মাহবুব নামের একজন বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের সাথে গালিগালাজ ও উচ্চবাচ্য করেন। পরে জব্দকৃত কাঠ সহ বন কর্মীদের চারজন তাকে বেঁধে নিয়ে যায়।

সচেতন মহল বলছেন, রিজার্ভের গাছ চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও কর্তৃপক্ষের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না থাকায় বন উজাড়ে দেউলিয়া হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া চোর চক্র। একইসাথে দোষীদের যথাযথ পদক্ষেপের কাঠগড়ায় না এনে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া যেনো গাছ চুরিতে উৎসাহিত করছেন তারা।

লামা বন বিভাগের অফিস সূত্রে জানা যায়, গাছ চুরিতে অভিযুক্ত মাহবুবের রিরুদ্ধে ইতিপূর্বে লামা সদর রেঞ্জের বমু রিজার্ভ এলাকা থেকে গাছ চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৬টি বন মামলা আছে। এর পরেও তার কাছ থেকে তৈন রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া কাঠ জব্দ হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে লামা সদর রেঞ্জের কর্মকতা আতে এলাহী বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্রে খবর পাই যে লামা সদর ইউনিয়নে আলীকদম তৈন রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া (৫০ ঘনফুট) কাঠ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট মাহবুব রহমান নামে এক জনকে অফিসে নিয়ে আসি। পরে জিজ্ঞেস্যাবাদ করে তাকে মুছলেকা নিয়ে আপাতত ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বন মামলা রুজু করা হচ্ছে।

লামা বিভাগীয় বন কর্মকতা আরিফুল হক বেলাল বলেন, গতকাল কিছু কাঠ জব্দ করেছে সদর রেঞ্জার আতে এলাহী। কাউকে মুছলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা সেটা আমি জানি না। তবে গাছ চুরিতে যেই জড়িত তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য: গত কয়েকদিন আগে লামা ও চকরিয়া কেন্দ্রিক কয়েক জনের একটি সিন্ডিকেট প্রায় ১৮৬ কোটি টাকা মূল্যের রিজার্ভের বিভিন্ন গাছ চুরি করেন। এই ঘটনায় কিছুদিন আগে আলীকদম তৈন রেঞ্জের ২জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশ থাকায় ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক সাময়িক বরখাস্ত করেন। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে লামা বন বিভাগ ফ্রি জোত পারমিটের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।

মেসেঞ্জার/বিপ্লব/আপেল