ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
২৫ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

সৈয়দপুরে ১১০ টন নিষিদ্ধ কীটনাশক কার্বোফুরান জব্দ

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:৫৭, ২৫ জুন ২০২৪

সৈয়দপুরে ১১০ টন নিষিদ্ধ কীটনাশক কার্বোফুরান জব্দ

ছবি : সংগৃহীত

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকা থেকে প্রায় ১১০ টন নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্রিফার জি-৫ (কার্বোফুরান) উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই, র‍্যাব ১৩, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত এসিআই কোম্পানির এসব বালাইনাশক জব্দ করা হয়।

প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যমানের এই অবৈধ পণ্য মজুদ করে গোপনে বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করছিল সৈয়দপুর শহরের মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্স নামে এসিআই কোম্পানির স্থানীয় ডিলার।

সূত্র জানায়, কার্বোফুরান নামের বালাইনাশকটি মানুষ তো বটেই, বেশির ভাগ প্রাণীর জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। সেই ২০১৬ সালে জাতিসংঘ এটি নিষিদ্ধ করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়। এরপর এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৮৭টি দেশ বালাইনাশকটি নিষিদ্ধ করেছে। গেল বছরের জানুয়ারিতে ৮৮তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এটি নিষিদ্ধ করে।

রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী, জুন ২০২৩ ইং থেকে এটি আর ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ৩১ জুলাই সরকারের বালাইনাশক বিষয়ক জাতীয় কারিগরী কমিটির (পিটাক) সভায় গেল (৩০ অক্টোবর) ২০২৩ পর্যন্ত কার্বোফুরান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো।

এসব নিষিদ্ধ ঘোষিত কীটনাশক ট্রাকযোগে যশোরে পাঠানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে। এটি ব্যবহার করলে মাজড়া পোকাসহ উপকারি পোকা মারা যায়।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ধীমান চন্দ্র জানান, ফেরোটন মূলতঃ ফসলের জন্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা যায়, এই কীটনাশকটি জমি ও উপকারী কীটপতঙ্গের জন্যও ক্ষতিকর।

তাই ২০২৩ সালের প্রথম দিকে এটা নিষিদ্ধ করে সরকার। তবে বিগত ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎপাদিত এই কীটনাশকের মজুদ শেষ করে উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাত করণের শেষ সময় নির্ধারণ করে দেয়। এরপর থেকে এই নিষিদ্ধ পণ্য সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৃষি বিভাগ নিশ্চিত হয় যে, সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর একটি গোডাউনে এই নিষিদ্ধ কীটনাশক মজুদ করে রেখে অধিক দামে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে এবং আজ গোডাউন থেকে সব মালামাল সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এমতাবস্থায় র‍্যাব, এনএসআই, পুলিশ ও সাংবাদিকদের সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে পাচারকালে হাতেনাতে ১১০ টন কার্বোফুরান জব্দ করা হয়েছে। এগুলো এই গুদামেই সীলগালা করে রাখা হয়েছে।  এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন, র‌্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মেহেদী হাসান, এএসপি আব্দুর রাজ্জাক খানসহ সঙ্গীয় ফোর্স, এনএসআই'র নীলফামারীর উপ পরিচালক মশিউর রহমান, বিএডিসি নীলফামারীর উপ পরিচালক শাহানা বেগম, সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। তাদের সহযোগিতা করেন সৈয়দপুর থানা পুলিশ ও সাংবাদিকবৃন্দ।

জব্দ মালের মালিক এসিআই কোম্পানির স্থানীয় ডিলার মনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কোম্পানির কাছ থেকে এই কীটনাশক যথানিয়মে নিয়েছি। জানতাম যে এটি শুধু রপ্তানি করা যাবেনা। তাছাড়া বিক্রি করায় কোন বাধা নেই। তাই লাভের আশায় এত মাল মজুদ করে রেখেছি।

এখন মৌসুম আসায় বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ কৃষি অফিসার সহ প্রশাসন এসে এগুলো জব্দ করে। অভিযোগ রয়েছে নিষিদ্ধ জেনে গোপনে পাচার করা হচ্ছিল। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কথা সঠিক নয়। তবে কিছু সাংবাদিক এসে বলেছিল এগুলো নিষিদ্ধ। এজন্য তারা চাঁদা দাবি করে। দিতে সম্মত না হওয়ায় তারা এই অভিযান চালিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

মেসেঞ্জার/রিপন/তারেক