ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
১৮ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

গরুর দড়ি ধরলেই লাখ টাকা

আবদুর রহিম

প্রকাশিত: ১০:৩৬, ১৩ জুন ২০২৪

আপডেট: ২২:১৭, ১৩ জুন ২০২৪

গরুর দড়ি ধরলেই লাখ টাকা

ছবি : মেসেঞ্জার

এমদাদ হোসেন। সিরাজগঞ্জ থেকে ৪০টি গরু নিয়ে গত দুইদিন কমলাপুর এসেছেন। গতকাল বিকেলে কয়েকজন ক্রেতা এমদাদ হোসেনকে একটি গরুর দাম জিজ্ঞেস করতেই দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দাম হাঁকালেন। বিস্মিত হয়ে ক্রেতা উত্তর দিলেন কিভাবে এতো টাকা হয়। উত্তরে এমদাদ বললেন-  ভাই! এখন গরুর দড়ি ধরলেও লাখ টাকা। আমার এখানে যত গরু আছে প্রত্যেকটির দাম দুই লাখ টাকার উপরে। আর এই বাজারে এখন পর্যন্ত যত গরু আসছে অধিকাংশ গরুই প্রায় লাখ টাকার উপরে বলে তিনি ধারণা করেন। তবে রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো  থেকে ঈদের  ২/৩ তিন আগে অনেকেই ছোট গরু বাজারে নিয়ে আসবেন। এবার গরুর দাম বেশি নিয়ে ব্যপারি এমদাদের ভাষ্য,গত কয়েক বছরে পশু খাদ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। পশুগুলো বিক্রি করা পর্যন্ত ১০জন লোক ঈদ পর্যন্ত ভাড়ায় খাটছেন রাত দিন। তাদের পেছনে কয়েক লাখ টাকা খরচ আছে। এছাড়া সংসারের খরচ চালানো, নিত্যপন্যে দামের সঙ্গে বেশি দামে গরু বিক্রি করেও লোকসান হয় বলে দাবী তার ।

গতকাল কমলাপুর স্টেডিয়াম,উটের খামার এলাকা,খিলগাঁও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখনো জমে উঠেনি পশুর হাট। আশপাশের বাড়ি ঘরের শিশুরা বাবার সাথে বাজার ঘুরে দেখছেন। জটলা বেঁধে কিছু যুবকও ঘুরে ঘুরে বাজার দেখছেন। কাউকে পশু কিনতে দেখা যায়নি। বাজার শুরু হলেও এখনো বাজারের সাঝসজ্জাও পরিপূর্ণভাবে শেষ হয়নি। বাঁশের তৈরি কাঠামোর কিছু অংশে ত্রিপল টানানো বাকি দেখা গেছে। তবে শ্রমিকরা শেষ সময়ের কাজ করছেন। এখনো হাটে ক্রেতা বিক্রেতার খুব বেশি ভিড়ও দেখা না গেলেও একের পর এক পশুবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। বাজারের ইজারাদাররা মনে করছে-কোরবানীর কয়েকদিন আগেই মূলত সবাই কোরবানির পশু কিনে।

দক্ষিণ কমলাপুর উটের খামার সংকগ্ন এলাকায় হাসিলের জন্য টেবিল সাজিয়ে বসে আছেন বাজার কর্মী আশরাফ। তিনি বলেন,এখনো কোনো গরু বিক্রি হয়নি। যারা গরু নিয়ে আসছেন তাদের ব্যবস্থা করে দিতেই তাদের সময় ব্যয় হচ্ছে। ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাল টাকা চিহ্নিত করতে ইজাদারদের পক্ষ টাকা জাল টাকা সনাক্তকরণ মিশিন বসানো হয়েছে।

গতকাল মানিগনগর এলাকায় সন্তানকে নিয়ে গরু দেখতে আসা আজিজুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাজারের কাছেই বাসা হওয়া তিনি সন্তানকে নিয়ে হাট দেখতে এসেছেন। সব গুরুই সৌন্দর্য দামও বেশি। আজিজুল বলেন, এক সময় আমরা মাঠেঘাঁটে কৃষকের  চরিয়ে বেড়ানো গরু ক্রয় করতে পারতাম অল্প টাকায়। দিনদিন এখন সেই কৃষকের গরু হারিয়ে গেছে। এখন উন্নত জাতের গরু বিভিন্ন এগ্রো ফার্মে চাষ হয়। তাই দামও বেড়ে গেছে। ঢাকায় গরু কিনে বাসায় রাখার যায়গা না থাকায় এখন শুধু ঘুরে দেখে যাচ্ছেন। ২/১ দিন আগেই কিনবেন বলে জানান তিনি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসছে ২০টি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১১টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বসছে ৯টি পশুর হাট।এ ছাড়া উত্তর সিটির অন্তর্গত গাবতলী ও দক্ষিণ সিটির অন্তর্গত শারুলিয়ার স্থায়ী হাটও যুক্ত হবে। অর্থাৎ এ বছর মোট পশুর হাট থাকবে ২২টি।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়, এ বছর কুরবানির জন্য এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি পশু রয়েছে। আর দেশে চাহিদা রয়েছে এক কোটি ১০ লাখের মতো। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ২০ লাখ পশু বেশি আছে।

মেসেঞ্জার/দিশা