ঢাকা,  রোববার
২১ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:১২, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

আপডেট: ২০:৪২, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

ছবি : মেসেঞ্জার

বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ। আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ ২৩’শ একরের ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাস ৫৭ পেরিয়ে আজ পা রেখেছে ৫৮ বছরে। শত বাঁধা আর প্রতিবন্ধকতাকে মাড়িয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে এ প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া ভার। এখানে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন, ঝুলন্ত ব্রিজ, ফরেস্ট্রি, চালন্দা গিরিপথ, সুইচ গেট এবং ঝর্ণা। এছাড়া রয়েছে হরেক রকম বন্য প্রাণী। যাদের মধ্যে শীতকালে দেখা মিলে মায়া হরিণ, বানর। অধিকাংশ সময় রাতের বেলা দেখা মিলে বন্য শুকর ও অজগর।

সারা বিশ্বের সাথে একটা স্বাতন্ত্র্যতা রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। শহর থেকে ক্যাম্পাসের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটারের। তাই শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ১৯৮০ সালে চালু হয় শাটল ট্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ছিল নিজস্ব ট্রেন। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ই পৃথিবীর একমাত্র শাটল ট্রেনের বিশ্ববিদ্যালয়।

চবির শাটল ট্রেনের ঠিকানা কিংবা গন্তব্য বটতলি থেকে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট। প্রতিদিন প্রায় দশ থেকে বার হাজার শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াতের মাধ্যম এই শাটল ট্রেনে।

এছাড়া দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও নানা আন্দোলনের স্মরণে রয়েছে বিভিন্ন ম্যুরাল ও চত্বর। যেগুলোর মধ্যে অন্যতম, বঙ্গবন্ধু চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, জয় বাংলা ম্যুরাল, শহীদ মিনার।

১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভের পর উপাচার্য ড. আজিজুর রহমান মল্লিকের হাত ধরে শুরু হয়ে হাটিহাটি পা পা করে ৫৮ বছরে এক নব যৌবনে এসে পা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এর ভেতরে এখানে অভিভাবকত্ব করেছেন ১৮ জন খ্যাতিমান ব্যক্তি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে র‍্যাংকিংয়ে উপরের দিকে যাওয়া এবং গবেষণা বাড়ানো। আমরা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ লক্ষ্যে চুক্তি করেছি, আমাদের ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ যাতে সেখানে যেতে পারে। আমরা গবেষণায় আমাদের বরাদ্দ বাড়িয়েছি। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা পাশ করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। গবেষণায়ও আমাদের শিক্ষকরা উপরের দিকে আছেন। আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে যাচ্ছি, যারা দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। আমাদের বিজ্ঞান মেলা হচ্ছে, গবেষণা মেলা হচ্ছে। আমাদের কৃতি গবেষক আছে, কিন্তু তাদের গবেষণা সঠিক জায়গায় পৌছাচ্ছে না, যেখান থেকে র‍্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া তিনি ছাত্রদের বিভিন্ন সংকট নিয়ে বলেন, ছাত্রদের সংকট নিরসনে আমরা নতুন তিনটি হল খুলে দিয়েছি। পরিবহন সংকট নিরসনে আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। নতুন ট্রেনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি মন্ত্রণালয়ের পাশ হলে আমরা নতুন ট্রেন পাব। সমাবর্তনের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছি। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তন হতে পারে।

মেসেঞ্জার/জিল্লুর/আপেল