ঢাকা,  মঙ্গলবার
২৫ জুন ২০২৪

The Daily Messenger

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্র সমাবেশ ও র‍্যালি জাবিতে

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ২১ মে ২০২৪

আপডেট: ২১:২০, ২১ মে ২০২৪

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্র সমাবেশ ও র‍্যালি জাবিতে

ছবি : মেসেঞ্জার

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিতে সমাবেশ ও র‍্যালি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক  শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (২১মে) বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে প্রায় চার শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি র‍্যালি বের হয় শহীদ মিনার থেকে। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। 

এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তা হলো অবিলম্বে গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের হারানো ভূখন্ড ফিরিয়ে দিতে হবে। গণহত্যার দায়ে জড়িত থাকার অপরাধে জায়নবাদী ইসরাইলের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত তৈরি করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজকে দলে দলে সমাবেশে যোগ দিতে আহবান জানাই। 

সমাবেশে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ সাদ বলেন, সারাবিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠী ইসরায়েলের একচক্ষু নীতি আর সইতে পারছে না। তাই সারা বিশ্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলন করছে। ফলে তাদের ছাত্রত্বও বাতিল করা হচ্ছে। আমি আনন্দিত যে জাবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে যোগ হয়েছে। স্বাধীন ফিলিস্তিনের এ আন্দোলনে আমি একাগ্রতা পোষণ করছি। 

নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন,  ফিলিস্তিনের পক্ষে আমরা সমর্থন রাখি। এই আন্দোলন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবারই। সারা পৃথিবীর মানুষ  তাদের পক্ষ নিচ্ছে। যেভাবে ছোট শিশুদের গ্রেফতার করা হচ্ছে,  যারাই আন্দোলন করছে তাদেরকেই তারা গ্রেফতার করছে। তাদরকে তারা ভয় পায়।  তারা যে অন্যায় করছে এটাই তার প্রমাণ। ফিলিস্তিনের ৩৬ টি হাসপাতালের মধ্যে ৩৩ টি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই অমানুষিক নির্যাতন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বেনিয়ামিন মোল্লা এই আন্দোলনের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, তাদের আছে গোলা বরুদ, কিন্তু মুসলমানদের আছে ঈমান, মুসলিমরা কখনো পিছ পা হয় না।  ইরানের প্রেসিডেন্টের দুর্ঘটনায় মৃত্যু  সাধারণ কোনো মৃত্যু না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মুসলমানদের ঐক্য যেন ভেঙে যায় তাই এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।  আমরা এ হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। 

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন,   ফিলিস্তিনের প্রতিটি শিশুর মৃত্যু দেখে মনে হয় আমারই সন্তান। আজ ফিলিস্তিনে যে হত্যা চলছে, তার উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনের সম্পুর্ন ভুমি দখল করা। সম্প্রতি জাতিসংঘে যুদ্ধ বিরতির জন্য নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দুই বার  ভেটো দিয়েছে। এটা থেকেই প্রমানিত হয় যুক্তরাষ্ট্রই বর্তমানে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তারা ভেটো দিয়েছিল পাকিস্তানের পক্ষে ।  তাই বাংলাদেশের মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে আছে এবং তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন করছে। 

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, আমার পূর্ববর্তি বক্তারা কিছু তথ্য দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের ভূখন্ড থেকে লক্ষাধিক মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন। তারা আজ নির্যাতিত। ইসরাইলি সেনারা লাগাতার আক্রমণ করে যাচ্ছে নিরীহ নারী ও শিশুেদর প্রতি। সারাবিশ্বে ছাত্রদের যে আন্দোলন  গড়ে উঠছে, তারই প্রতিফলন আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ সমাবেশ। তাই ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলনের সাথে আমি একাগ্রতা পোষণ করে যাবো। 

সমাবেশে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ  করেন।

মেসেঞ্জার/তাওহীদ/শাহেদ 

Advertisement