ঢাকা,  রোববার
১৪ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ব্যরিষ্টার হতে চায় রাজশাহীর সাথী খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩০, ৮ জুলাই ২০২৪

সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ব্যরিষ্টার হতে চায় রাজশাহীর সাথী খাতুন

ছবি : মেসেঞ্জার

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় বসছেে  মোসাঃ সাথী খাতুন। জন্ম থেকেই সাথীর দু’টি হাত নেই। তবে হাত না থাকলেও সে পা দিয়ে লিখতে পারে। 

পরীক্ষার হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকগণ জানান, পায়ের বুড়ো ও তর্জনী আঙুলের মাঝে কলম নিয়ে বেঞ্চে বসেই অন্যান্য স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতই লিখছে সাথী খাতুন। 

নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাথী খাতুনের বাড়ি পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মাঝিগ্রামে। গ্রামের জায়দার আলীর একমাত্র কন্য সন্তান সাথী প্রতিদিন এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসে তার নানার সাথে। পরীক্ষা কেন্দ্রে বাড়তি কোন সুবিধা না নিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মত পরীক্ষা দিয়ে সে শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 

পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইদ আলী জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তার লেখা দেখলে কেও বলবে না, সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে অন্যান্য শিক্ষার্থীর মত করেই পরীক্ষা দি”েছ। আমরা সাথী খাতুনকে বলেছি, তোমার যদি বেঞ্চে সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের বলো আমরা তোমাকে আলাদা জায়গায় পরীক্ষা নেবো। কিন্তু সে বেঞ্চে বসেই পরীক্ষা দিছে। 

সাথীর সহপাঠী প্রীতি মনি জানায়, সাথী নিয়মিতই কলেজে আসে। তাকে দেখে কখনো ঐভাবে বোঝা যায় না যে সে প্রতিবন্ধী। আমরা দেখেছি সাথী পড়াশোনায় ভীষণ মনযোগী। এছাড়াও পড়াশোনার বিষয়ে আমরা সবাই তাকে সাহায্য করি। সে পা দিয়েই হাতের মত করে লিখতে পারে এবং তার হাতের লেখাও সুন্দর। একই কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসমিন জানায়, সাথী মেধাবী ছাত্রী। ছোট বেলা থেকেই তাকে ট্যালেন্ট দেখছি। তার দু’টি হাত নেই তা বোঝাই যায় না। সে পড়াশোনায় ভালো, তার হাতের লেখাও ভালো। 

৬ জুলাই (রবিবার) পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের সামনে সাথী খাতুন সাংবাদিকদের জানায়, পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিতে তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সে জানায়, ‘আমি প্রতিবন্ধী বলেই পড়াশোনা করবো না, কারো দয়ায় চলবো বিষয়টা তেমন নয়। আমি নিজ থেকে ভালো করার সর্বো”চ চেষ্টা করি। হাত না থাকায় ছোট বেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার প্র্যাকটিস করতাম। আস্তে আস্তে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস হয়ে যায়।’ 

সাথী খাতুন আরও জানায়, ‘আমি যখন পা দিয়ে লেখি, তখন আমার মনেই হয় না যে, আমার কোনো হাত নেই। তখন পা-কেই আমার হাত মনে হয়। আমি পরিবার ও সমাজের মানুষের চোখে বোঝা নয়, সম্পদ হতে চাই। আমি বড় হয়ে ব্যারিষ্টার হতে চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। যেনো আমি মা-বাবার মুখ উজ্জল করতে পারি।’

নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান মোঃ মোস্তফা জামান বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর পর সাথী খাতুনের কাছে যাই। তাকে জিজ্ঞাসা করি, তোমার কোনো অসুবিধা হ”েছ? মেয়েটা কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ২০ মিনিট বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।  কেন্দ্রের পরিদর্শকদের তাকে বিশ মিনিট সময় বেশি দিতে বলি। কিন্তু সাথী খাতুন সেটি নিতেও অনাগ্রহী। কারণ এমনিতেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তার পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। তার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে আমরা সজাগ রয়েছি।’ 

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর দিন জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ স্যার সাথী খাতুনকে আবিস্কার করে গেছেন। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ রয়েছি। আমরা কেন্দ্রসচিব বলেছি, বেঞ্চে পরীক্ষা দিতে সমস্যা হলে তাকে পছন্দমত জায়াগায় বসে পরীক্ষা নিতে। আশা করি বাকি পরীক্ষাগুলো ভালোভাবে শেষ করবে। 

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মোসাঃ সাথী খাতুন। জন্ম থেকেই সাথীর দু’টি হাত নেই। তবে হাত না থাকলেও সে পা দিয়ে লিখতে পারে। 

পরীক্ষার হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকগণ জানান, পায়ের বুড়ো ও তর্জনী আঙুলের মাঝে কলম নিয়ে বেঞ্চে বসেই অন্যান্য স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের মতই লিখছে সাথী খাতুন। 

নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাথী খাতুনের বাড়ি পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মাঝিগ্রামে। গ্রামের জায়দার আলীর একমাত্র কন্য সন্তান সাথী প্রতিদিন এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসে তার নানার সাথে। পরীক্ষা কেন্দ্রে বাড়তি কোন সুবিধা না নিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মত পরীক্ষা দিয়ে সে শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। 

পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইদ আলী জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তার লেখা দেখলে কেও বলবে না, সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে অন্যান্য শিক্ষার্থীর মত করেই পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা সাথী খাতুনকে বলেছি, তোমার যদি বেঞ্চে সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের বলো আমরা তোমাকে আলাদা জায়গায় পরীক্ষা নেবো। কিš‘ সে বেঞ্চে বসেই পরীক্ষা দিচ্ছে। 

সাথীর সহপাঠী প্রীতি মনি জানায়, সাথী নিয়মিতই কলেজে আসে। তাকে দেখে কখনো ঐভাবে বোঝা যায় না যে সে প্রতিবন্ধী। আমরা দেখেছি সাথী পড়াশোনায় ভীষণ মনযোগী। এছাড়াও পড়াশোনার বিষয়ে আমরা সবাই তাকে সাহায্য করি। সে পা দিয়েই হাতের মত করে লিখতে পারে এবং তার হাতের লেখাও সুন্দর। একই কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসমিন জানায়, সাথী মেধাবী ছাত্রী। ছোট বেলা থেকেই তাকে ট্যালেন্ট দেখছি। তার দু’টি হাত নেই তা বোঝাই যায় না। সে পড়াশোনায় ভালো, তার হাতের লেখাও ভালো। 

৬ জুলাই (রবিবার) পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের সামনে সাথী খাতুন সাংবাদিকদের জানায়, পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিতে তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সে জানায়, ‘আমি প্রতিবন্ধী বলেই পড়াশোনা করবো না, কারো দয়ায় চলবো বিষয়টা তেমন নয়। আমি নিজ থেকে ভালো করার সর্বো”চ চেষ্টা করি। হাত না থাকায় ছোট বেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার প্র্যাকটিস করতাম। আস্তে আস্তে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস হয়ে যায়।’ 

সাথী খাতুন আরও জানায়, ‘আমি যখন পা দিয়ে লেখি, তখন আমার মনেই হয় না যে, আমার কোনো হাত নেই। তখন পা-কেই আমার হাত মনে হয়। আমি পরিবার ও সমাজের মানুষের চোখে বোঝা নয়, সম্পদ হতে চাই। আমি বড় হয়ে ব্যারিষ্টার হতে চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। যেনো আমি মা-বাবার মুখ উজ্জল করতে পারি।’

নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান মোঃ মোস্তফা জামান বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর পর সাথী খাতুনের কাছে যাই। তাকে জিজ্ঞাসা করি, তোমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে? মেয়েটা বললো কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ২০ মিনিট বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।  কেন্দ্রের পরিদর্শকদের তাকে বিশ মিনিট সময় বেশি দিতে বলি। কিš‘ সাথী খাতুন সেটি নিতেও অনাগ্রহী। কারণ এমনিতেই নির্ধারিত সময়ের আগেই তার পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। তার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে আমরা সজাগ রয়েছি। 

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর দিন জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ স্যার সাথী খাতুনকে আবিস্কার করে গেছেন। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ রয়েছি। আমরা কেন্দ্রসচিব বলেছি, বেঞ্চে পরীক্ষা দিতে সমস্যা হলে তাকে পছন্দমত জায়াগায় বসে পরীক্ষা নিতে। আশা করি বাকি পরীক্ষাগুলো ভালোভাবে শেষ করবে। 

মেসেঞ্জার/আনিসুজ্জামান/সৌরভ