ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
২৩ মে ২০২৪

The Daily Messenger

বিএনপির ভোট ও পণ্য বর্জনের নেপথ্যে

আবদুর রহিম

প্রকাশিত: ২১:০৯, ২২ এপ্রিল ২০২৪

আপডেট: ২১:১৪, ২২ এপ্রিল ২০২৪

বিএনপির ভোট ও পণ্য বর্জনের নেপথ্যে

ফাইল ছবি

১৭ বছর ক্ষমতার বাহিরে বিএনপি। দলের চেয়ারপার্সনের বন্দি এবং টানা চারটি জাতীয় নির্বাচনে আন্দোলন করেও ব্যর্থ হয় দলটি। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েও ঘরে কোনো ফসল তুলতে পারেনি। নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্ব দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দলটির ভাষ্য- রাজনৈতিক ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছেন। দেশের সাধারণ মানুষও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ায় দেশের সিংহভাগ মানুষও ভোট কেন্দ্রে যায়নি। বিএনপির সিদ্ধান্তকে মানুষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এজন্য তারা এবার স্থানীয় নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করছে না।

ক্ষমতাসীন সরকার যে নিজেরা নিজেরা ভোট করেও সংঘাত-সহিংসতা এড়াতে পারে না তা আবারও প্রমাণ হচ্ছে। ভোটের আগেই স্ব দলীয় পন্থিদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শুধুমাত্র একটি দেশ আওয়ামি লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। সেই দেশটির বিরুদ্ধে হওয়া পন্য বর্জনের সামজিক আন্দোলনকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছেন। এবার ঈদের পূর্বে ভারতীয় পন্য বিক্রিতেও ধস নেমেছে। দলটি মনে করছে-শুধু পন্য বর্জন নয় আগামীতে যারা বাংলাদেশে থেকে চিকিৎসা নিতে ভারতে যান,ঘুরতে যান সেগুলোর বিকল্প কি হতে পারে তাও নিয়েও দলের ভেতরে পর্যবেক্ষণ চলছে। ভোট বর্জন এবং পন্য বর্জনে বিএনপি যে সাড়া পেয়েছে নীরবতায় তার ফসল ঘরে তোলাই এখন মূল টার্গেট। কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক সমর্থন পাচ্ছেন বলেও দলের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে।

দলটির নির্ভরযোগ্য নেতারা বলছেন-স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন করে সফল হওয়া যায়, এর জন্য হয়তো সময় লাগে। কিন্তু ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন দিয়ে সম্ভব হয় না। সেখানে যুদ্ধ বা বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন হয়। সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফীর পতন কোনো আন্দোলনে হয়নি। বিএনপির সহিংস পথে যাওয়া সম্ভব নয় তাই জনগণের ভাষাকে গুরুত্ব দিয়েই তারা আর এই সরকারের অধিনে নির্বাচনে যাচ্ছে না। এবং জনগণ যে দেশটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে তাদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছেন। এ নিয়ে সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামাজিক আন্দোলনটা যারা করছেন তারা সঠিক কাজ করছেন। আমি আমার মতামত প্রকাশ করেছি। আমি মনে করি আমার দলের প্রায় শতভাগ নেতাকর্মী এটার সঙ্গে একমত। এদিকে ভোট বর্জন নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যায়, জাতীয় নির্বাচন বর্জনের পর এখন উপজেলা নির্বাচনে গেলে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। প্রশ্ন তোলা হবে কেন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া মাঠের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে যদি প্রভাবশালী ও সম্পদশালী কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে দলে ভাঙ্গন বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিএনপি ভোটে না যাওয়ায় দেশের দেশের ৭৫-৮৫ ভাগ জনগণও ভোটে যায়নি, বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়েছে। মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। এই নির্বাচনে না যাওয়া ছিল বিএনপির জন্য লাভজনক। যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ অনেকে এই নির্বাচনকে বৈধতা দেয়নি। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বন্দি ও সাজাও বিশ্বপাড়া ভালোভাবে নেয়নি। বিএনপিও এখন বিশ্বকে জানাচ্ছেন-কারাগার এখন তাদের নেতাকর্মীদের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে গেছে। ২৫ থেকে ২৬ হাজার নেতাকর্মী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। কয়েক হাজার নেতাকর্মী এখনও কারাগারে বন্দি রয়েছে এভাবে কোনভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে না।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ডেইলি মেসেঞ্জারকে বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে যে কোনো নির্বাচন হয় না তা বিশ্ববাসী দেখেছে। কেন এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যায় না সেটিও প্রমাণ হয়েছে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বিএনপি যাবে না তাও দলের পক্ষে বলা হয়েছে।বিএনপি এখন সরকার পতনের আন্দোলনে রয়েছে। জনগণ যে বিষয়গুলোতে সম্পৃক্ত হচ্ছে বিএনপি এখন সেগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

মেসেঞ্জার/হাওলাদার

Advertisement

Notice: Undefined variable: sAddThis in /mnt/volume_sgp1_07/tp4l1yw3zz9u/public_html/bangla/details.php on line 768