ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
২৫ জুলাই ২০২৪

The Daily Messenger

ব্যর্থ নেতাদের তালিকা তারেক রহমানের হাতে

আবদুর রহিম, ঢাকা 

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ২৫ জুন ২০২৪

আপডেট: ১৮:০৪, ২৫ জুন ২০২৪

ব্যর্থ নেতাদের তালিকা তারেক রহমানের হাতে

ছবি : সংগৃহীত

* ব্যর্থ নেতাদের চিহ্নিত করছে বিএনপি
* ব্যাবসায়ী নেতারা পদবী রক্ষায় লন্ডনে যাচ্ছেন 
* এবার ত্যাগী ও পরিক্ষিতরাই মূল্যায়িত হবে 

আন্দোলন এবং দলের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ নেতাদের চিহ্নিত করছে বিএনপি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আগে পরে যারা আন্দোলনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, যারা স্বার্থান্বেষী ভূমিকা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। গত তিনমাসেরও বেশি সময় ধরে তারেক রহমান দলের গোপনীয় জরিপ থেকে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছেন। প্রেসরিলিজ দিয়েই একে একে শীর্ষ নেতাদের পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে ক্ষুব্ধ হলেও ভয়ে মুখ খুলছেন না। আবার অনেকে বলছেন, তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তা খুবই যৌক্তিক।  

ইতিমধ্যে পদ হারানোর আতঙ্কে শত শত নেতা পদ রক্ষায় দলের নীতিনির্ধারকদের দরজায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন । দলের কয়েকজন নেতা বলেছেন, যারা ব্যাবসায়ী, সম্পাদশালী আন্দোলন সময়ে ঘর থেকে বের হয়নি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দেখে অনেকে লণ্ডনেও যাতায়াত বাড়িয়েছেন। তবে অর্থলোভী হয়ে ব্যর্থ নেতৃত্বকে এবার তারেক রহমান আর গ্রহণ করবেন না- এমনই ভরসাই করছেন অনেকে। তাঁরা ধারণা করছেন,  যারা রাজপথে ত্যাগী, আন্দোলনে পরিক্ষিত তারাই আগামীতে সামনের সারিতে আসবেন। ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে দল গত ১৭ বছরে বার বার ধাক্কা খেয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যর্থতাঁর কারণে একদিনেই ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, বরিশাল মহানগর ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ এক ডজন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন ব্যর্থ নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই ঢাকা মহানগরসহ যুবদলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণা আসবে। এছাড়া অন্যান্য কমিটিগুলোও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আসবে। নেতাদের অনেকে মনে করেন, আন্দোলনে ব্যর্থতা ও সংগঠন গতিশীল করতে না পারায় কমিটিগুলোর নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ দলের শীর্ষ নেতারা। তাই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কাউন্সিল না হলেও প্রেসরিলিজের মাধ্যমে তা দৃশ্যায়িত হবে। 

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে বিএনপি। আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার কারনে ঢাকা মহানগরসহ বেশ কিছু সংগঠন নিয়ে নানান প্রশ্ন ওঠেছে। আন্দোলন সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে খ্যাত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদল। এই দুটি সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও ছিলো ব্যাপক আলোচনা। তাই গত ১ মার্চ ছাত্রদলের কমিটি ভেঙ্গে ৭ সদস্যের কমিটি দেয়া হয়। যা গত ১৫ জুন ২৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

এক রাতের মধ্যে ৯টি কমিটি বিলুপ্ত করার পাশাপাশি ঘটেছে দলের গুরুত্বপূর্ণ ৪৫ পদে রদবদল। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা কমিটি পুনর্বিন্যাসকে চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রদবদল-সরকার পতন আন্দোলনে নেতাদের ব্যর্থতা এবং নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয়তাই মূল কারণ। যারা এবার ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা আগামীতে সতর্ক হবেন। তবে এ রদবদল যোগ্যদের মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী আন্দোলন-কর্মসূচিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা। 

সূত্র জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশ মুখে অবস্থান কর্মসূচি সফল না হওয়ায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নগর কমিটিগুলো দলের মধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব নিয়ে তখনই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ছাত্রদল সভাপতির পদ থেকে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে ‘অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে’ সরিয়ে দেয়া হয়। যা দলের মধ্যে তোলপাড় তৈরি করেছিল। এরপর ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে ডাকা মহাসমাবেশ পণ্ড ওয়ার ঘটনাতেও এই নেতাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়। আন্দোলনে যেসব নেতা ও কমিটি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা, কর্মসূচিতে অনুপস্থিত ছিলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সেসব কমিটি ও নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয় তখন থেকে। 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার পতনের আন্দোলনে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। দলটির এসব কর্মসূচি বরাবরের মতো ঢাকার বাইরে সফল হলেও ব্যর্থ হয়েছেন ঢাকার নেতারা। বিশেষ করে গতবছরের ২৯ জুলাই থেকে দলের ভেতর থেকে গোপন জরিপ চালানো হয়। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক বিশ্বস্ত এক নেতা বলেন, দলের পদবী ছাড়াও অন্তত কয়েক ডজন ব্যাক্তি দলের সকল কর্মকান্ড নজর রাখেন। তাঁরা প্রতি মুহূর্তেই তারেক রহমানকে সব বার্তা পৌঁছান। কারা তারেক রহমানের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছেন কারা নিজদের গুঁটিয়ে আড়ালে ছিলেন তাঁর সকল তথ্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে রয়েছেন। সেই আলোকে এখন অনেককে পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন আবার অনেককে পদ দিচ্ছেন। তিনি গত তিনমাসে চিরুনী অভিযানের মাধ্যমে ব্যর্থদের চিহ্নিত করেছেন।তাঁর হাতে এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছেন।  

হঠাৎ করে শীর্ষদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে জানতে চাইলে চাইলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হঠাৎ করে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এমন নয়। এটা দলের চলমান প্রক্রিয়া। দলের নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কখনো কমিটি গঠন করা হয়, আবার কখনো বিলুপ্ত করা হয়। এটা খুব স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের নির্বাহী কমিটিতে কিছুশূন্য পদ পূরণ এবং কিছু পদে সমন্বয় করা হয়েছে। আগামীতে আরও রদবদল করা হবে কিনা, সেটা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলতে পারবেন।

মেসেঞ্জার/সজিব